August 17, 2026, 3:01 pm

পাটগ্রামে গ্রাম্য সালিসি বৈঠকে “মারধরে” আহত যুবকের মৃত্য’র,ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ঘন্টা সড়ক অবরোধ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত না মানায় মারধর ও প্রকাশ্যে অপমানের শিকার হয়ে ফিরোজ হোসেন (২০) নামে এক যুবক কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার বিচার, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং মামলা গ্রহণের দাবিতে নিহতের মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন উত্তেজিত,স্থানীয় বাসিন্দারা।

(৩ আগস্ট) সোমবার বিকেল ৫টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী পাটগ্রাম উপজেলা সদরের আন্তঃজেলা মোড়ে নিহতের বাড়ির সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট শনিবার পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত একটি গ্রাম্য সালিশি বৈঠকে ফিরোজ হোসেন’কে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রভাবশালী একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

পরিবার ও স্থানীয় স্বজনের দাবি, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপমান ও মানসিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ফিরোজ ঘরে থাকা কীটনাশক পান ‘আত্বহত্যা’ করার জন্য চেষ্টা করেন। পরে তার স্বজনরা ঘটনা বুঝতে পেরে, তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাফিউল ইসলাম সামলু, ছাত্রদল নেতা স্বাধীন, স্থানীয় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন সাই, তার ছেলে তুহিনসহ কয়েকজন সালিশি বৈঠকের নেতৃত্ব দেন। পরে তারা ফিরোজের বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের আরও অভিযোগ, মারধরের ঘটনার পর তারা থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণে টালবাহানা করে। পরে ফিরোজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে থানার ভূমিকার প্রতিবাদে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিকেলে রংপুর থেকে মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের আন্তঃজেলা মোড়ে মরদেহ রেখে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন। তারা দ্রুত মামলা গ্রহণ, অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

খবর পেয়ে পাটগ্রাম থানা পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘পূর্বে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে রাতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। রংপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পুর্ন করবে।’

তিনি আরও বলেন, অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা